April 2, 2026, 5:18 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দায় হিসেবে উঠে এসেছে ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা এবং বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।=
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। পরদিন (১ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এবং বাসটির কারিগরি ত্রুটিসহ একাধিক কারণ মিলেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান উছেন মে জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে বলে তিনি জানান, তবে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার ৪ জন, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঢাকার আশুলিয়া থেকে একজন করে নিহত হন। অনেক পরিবারে একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক করে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।